সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয় করবেন?

ব্যবসা কিংবা সার্ভিস যাই বলেন না কেন বহু আগে থেকেই এগুলোকে মানুষ এর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রচার প্রচারণার ব্যবসা ছিল। একটু চিন্তা করলেই দেখতে পারবেন আগে কিভাবে হাক ডাক দিয়ে দোকানে আনতো মানুষ। সেটাও ছিল এক প্রকার মার্কেটিংই।

যাই হোক আধুনিক কালে এই মার্কেটিং বা প্রচার ব্যবস্থার অনেক উন্নতি ঘটেছে। সেই সাথে পাল্টেছে পুরানো প্রথা। এমনকি মানুষের বহুল ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়াও এখন মার্কেটিং এর সেক্টরে ব্যবহৃত। ভাবতে পারেন যেই সোশ্যাল মিডিয়াকে আপনি ব্যবহার করছেন ফ্রেন্ড এর সাথে চ্যাট করার জন্য। ঠিক সেই খানে আরেকজন করছে নিজের ব্যবসা চালানোর জন্য। কত্ত অবাক তাই না?

আর এই অবাক জিনিসটাকে নিয়েই আজ আমরা কথা বলব। হ্যা,আজকে আমাদের আর্টিকেল এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি, ডিজিটাল মার্কেটিং কি, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কি সাথে কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয় করবেন তা নিয়েও আলোচনা করব। চলুন শুরু করা যাক। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংকে সহজ কথায় বলতে গেলে সোশ্যাল মিডিয়া গুলো ব্যবহার মার্কেটিং করাকে বুঝানো হয়। আর একটু বিস্তর ব্যাখ্যায় গেলে আমাদের সংজ্ঞাটা একটু পালটে যাবে। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলতে মূলত বিভিন্ন মিডীয়া যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি ব্যবহার করে নিজের ব্রান্ডের প্রচার প্রচারণা চালানোকে বুঝানো হয়। একটি ব্রান্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর গুরুত্ব অপরিসীম।  

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যে বিষয়গলো মাথায় রাখতে হয় তা একটু নিচে আলোচনা করা হলোঃ 

কন্টেন্ট পাবলিশঃ 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। আধুনিক কোম্পানিগুলো প্রচার প্রচারণার জন্য এই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ব্যবহার করে থাকে। কেননা সোশ্যাল মিডিয়াই কেবল মুহূর্তেই লক্ষ লক্ষ জনতার কাছে একটি প্রোডাকটকে তুলে ধরতে পারে। 

এই নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর প্রথম ধাপ যেটি তা হলো কন্টেন্ট পাবলিশ। আপনাকে মার্কেটিং এর আগে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে হবে একটি প্লাটফর্ম সাজিয়ে নিতে হবে। আর এর জন্য আপনাকে অবশ্যই কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে। কন্টেন্ট পাবলিশ না করলে আপনার যথেষ্ট পরিমাণ মার্কেটিং ফিল্ড তৈরি হবে না। 

ফলোয়ারদের সাথে কানেক্টেড থাকাঃ 

দ্বিতীয়ত যে বিষয় মাথায় রাখতে হবে তা হলো আপনাকে অবশ্যই কানেক্টেড বা সংযুক্ত থাকতে হবে আপনার ফলোয়ার দের সাথে। ফলোয়ারদের সাথে কানেক্টেড থাকা একটি মাস্ট। আপনার অবশ্যই একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে আপনার মার্কেটিং এর মূল ক্ষেত্র কিন্তু এই জনগণ। তাই এদের বাদ দিয়ে যদি আপনি মার্কেটিং করতে যান তাহলে কিন্তু হিতে বিপরীত হবে। 

তাই সব সময়ই চেষ্টা করুন নিজের ফলোয়ারদের সাথে কানেক্টেড থাকতে। বিভিন্ন কমেন্টে তাদের রিপ্লাই দিন, বা পেজে মেসেজ দিলে তা ঠিক সময়ে রেসপন্স করুন। এতে করে যদি আপনার বিজনেস পেজ হয়ে থাকে তাহলে কিন্তু একটি পজিটিভ রিভিউ আসবে। 

ফলাফল অ্যানালাইজ করাঃ 

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ফলাফল অ্যানালাইজ করা। আপনি কি কাজ করছেন সেই কাজের ফলাফল কি হচ্ছে তা বিশ্লেষণ করুন। আপনার কোন পদক্ষেপে কি পরিমাণ জনগণ আকৃষ্ট হচ্ছে তা একটু লক্ষ রাখুন। 

এতে করে যে জিনিসটা হবে তা হলো আপনি বুঝতে পারবেন যে কোনটি কার্যকরী পদক্ষেপ এবং কোনটি অকার্যকরী।

এছাড়াও ফলাফল বিশ্লেষণ এর ক্ষেত্রে আপনাকে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে তা হলো আপনার অডিয়েন্স টার্গেট। আপনার প্রোডাক্ট সমন্ধে আপনাকে প্রথমে ধারণা নিতে হবে। এরপর নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর জন্য কোন ক্ষেত্রে এই মার্কেটিং করা উচিত তা খুঁজুন। এভাবে ধীরে ধীরে আপনি নিজের কাঙ্ক্ষিত কাস্টমার পেয়ে যাবেন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং দ্বারা। 

সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাড দেখানোঃ 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর আরেকটি দিক হলো অ্যাড বা বিজ্ঞাপন দেখানো। সোশ্যাল মিডিয়া তে অ্যাড বা বিজ্ঞাপন দেখানোর চেয়ে বড় কিছুই নেই। আপনাকে এই বিষয় মাথায় রাখতেই হবে। প্রতিদিন অনেক ভিজিটর এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সার্ভিস সমন্ধে জানে। 

তাই ডিজিটাল মার্কেটিং কোনো স্পেশালিস্টকেও যদি আপনি নিয়োগ দেন তাহলেও তিনি একই কথা বলবেন। তাই সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে অ্যাড বা বিজ্ঞাপন দেখানোর ব্যবস্থা করুন। এতে করি আপনি বিজনেসকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পারবেন খুব সহজেই। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলোকে আপনার অবশ্যই মাথায় রাখতেই হবে। আর যদি মাথায় না রাখতে পারেন তাহলে অনেক বেশি সমস্যা হবে। তবে আশা করি আপনি তা পারবেন এবং সাফল্যমণ্ডিত হতেও। 

কেন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে হয়? 

আপনার মনে এতক্ষণে একটা প্রশ্ন নিশ্চয় এসেছে। প্রশ্নটি হলো এই যে কেন আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করবেন, তাই না? 

আমি যদি এখন কোন উত্তর দেইও তারপরও আপনি কিছুটা ভুল বের করে বলবেন আমি তো নর্মালেই এতটা মার্কেটিং করতে পারব। জ্বি আপনি করতে পারবেন না সেটা কিন্তু আমি বলিনি। কিন্তু নর্মাল মার্কেটিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মধ্যে যে বিশাল একটা তফাৎ রয়েছে তা কি আপনার জানা? 

না থাকলে এখনি জানিয়ে দিচ্ছি একটা উদাহরণ দিয়ে। এখন ধরা যাক আপনার একটি দোকান রয়েছে যেখানে আপনি কনফেকশনারি জিনিস বা অন্য কোনো প্রোডাক্ট রাখেন। এখন নর্মালি আপনি মার্কেটিং এর জন্য শহরের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার বা ব্যানার দিয়ে রাখলেন। আর এই ব্যানার তৈরিতে অনেক টাকাই প্রায় চলে যাবে। তারপর আপনি যেই ব্যানার রাখার স্থানটি নিবেন সেখানেও অনেক টাকা চলে যাবে। মোট মিলিয়ে ধরলে একটা ভালো অংকের টাকা আপনার পকেট থেকে খসে পড়বে। 

কিন্তু আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর দিকে একটি বার তাকান। তাহলে দেখতে পারবেন আপনাকে কোনো ব্যানার বানাতে হবে। এতে করে আপনার ব্যানার বানানোর টাকাটা বেঁচে গেল। আবার অন্যদিকে ব্যানার কোঁথায় লাগাবেন তা নিয়েও ভাবতে হবে না। মোট কথা এখানে একেবারে ফ্রি তেই না হলেও অনেক টাকা কমে মার্কেটিং করতে পারবেন। আর এই স্বল্প খরচই হলো সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর অন্যতম একটি সুবিধা। 

এবার আসা যাক সেকেন্ড পয়েন্ট নিয়ে। আপনি নর্মালি আপনার শহর। বা ধরুন পুরো দেশে আপনার কাস্টমার বা দোকান রয়েছে। সেক্ষত্রে মার্কেটিং বা এই ফেস্টুন এর মাধ্যমে আর কতজন এর কাছে পৌছাতে পারবেন? ধরা যাক ১১০ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌছালেন। কিন্তু তার মধ্যে আপনার কাস্টমার আরও কমে আসবে। কারণ সবাই আপনার ক্রেতা না। 

এবার একটু সোশ্যাল মিডিয়া গুলোর দিকে তাকান ফেসবুকে ২ বিলিয়ন আবার ইন্সটাতে ১ বিলিয়ন এমনি টুইটারেও ১ বিলিয়ন ইউজার রয়েছে। যাদের গড় ব্যবহার ডেইলী ২০ মিনিট। অর্থাৎ তারা দিনে একবার হলেও আসে এখানে এবং ২০ মিনিট থাকে। তাহলে আপনি যদি এখানে মার্কেটিং করেন তাহলে কত মানুষের কাছে পৌছাতে পারবেন ভাবুন? 

খুব সহজেই আপনি নিজের ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারবেন। আর সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর একটি গুরত্বপূর্ণ সুবিধা হলো এটি। আপনি একটু ব্রেন খাটিয়ে কাজ করলেই তা উপভোগ করতে পারবেন। 

বিভিন্ন প্রকার সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং- 

সোশ্যাল মিডিয়া এর সংখ্যা কিন্তু এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেসবুক আসার পরপরই এসেছে ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, স্ন্যাপচ্যাট এর মতো মিডিয়াগুলো। আর সব গুলোই এখন চলেছে চরম সাফল্যের দিকে। আর এই মিডিয়া এর উপর ভিত্তি করেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। নিচে আমরা তা সমন্ধে আলোচনা করবঃ 

ফেসবুক মার্কেটিংঃ 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর সিংহভাগ হয়ে থাকে ফেসবুকের মাধ্যমে। ফেসবুক মার্কেটিং এখন বলা যায় জনপ্রিয়তারও উর্ধে। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনি নিজের সার্ভিসকে অনেক উপরে নিয়ে যেতে পারবেন। টাকা দিয়ে যে কোন প্রকার সার্ভিসের বিজ্ঞাপনই এখানে দেয়া যায়। 

মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কেন আমি ফেসবুককে প্রাধান্য দিচ্ছি তা একটু পরিসংখ্যান এর মাধ্যমে আপনার সামনে আনছি। ২০১৬ সালের একটি পরিসংখ্যান মতে ফেসবুকে এক্টিভ বা সক্রিয় ব্যবহার কারী হচ্ছে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন বলা যায় প্রায় ২০০ কোটি। প্রতিদিন ইউজার হলো ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন দেড়শ কোটি এর কাছাকাছি। আর এই দেড়শ কোটি মানুষের সবাই কিন্তু গড়ে ২০ মিনিট ফেসবুকে স্পেন্ড বা ব্যয় করে থাকে। এছাড়াও ৩০০ মিলিয়ন ছবি পোস্ট হয় প্রতিদিন। এবং কমেন্টও প্রায় প্রচুর। মোট কথা একটি মহাদেশ এর তুলনায়ও অনেক মানুষের আনাগোনা ছিল সেই সময়েই। 

তাহলে ভাবুন ২০২১ সালে এসে এই সংখ্যা কত? তার মানেই বুঝতে পারছেন এখানে কেন মার্কেটিং করবেন। 

ইউটিউব মার্কেটিংঃ 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর দ্বিতীয় যে ক্ষেত্র টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ইউটিউব। ইউটিউব ব্যবহার কারীর সংখ্যা প্রায় দেড় শ কোটির কাছাকাছি। আর ডেইলী তা ব্যবহার করে থাকে ৩০ মিলিয়ন মানূষেরও বেশী। অর্থাৎ মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি এত মানুষের কাছে খুব সহজেই পৌছাতে পারবেন। 

এবার আসা যাক ভিডিও এর ব্যাপারে ইউটিউবে প্রতিদিন প্রায় ৫ বিলিয়ন ভিডিও দেখা হয়। আর ইউটিউব এর মার্কেটিং এর মূল বিষয়টাই কিন্তু হলো ভিডিও। ভিডিও তে অ্যাড বা বিজ্ঞাপন দেখিয়েই মূলত এমনটা করা হয়। 

তাহলে মার্কেটিং এর জন্য একটা সেরা মাধ্যম হিসাবে কাজ করতে ইউটিউব। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং যদি করতে চান তবে ইউটিউব মার্কেটিং হলো একটা অতীব প্রয়োজনীয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। 

ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিংঃ 

মার্কেটিং এর অপর একটি সেরা মাধ্যম হলো ইন্সটাগ্রাম। ২০১৬ সালে যেখানে ছিল ৬০০ মিলিয়িন ইউজার এখন সেখানে আপনি পাবেন ১ বিলিয়ন এরও বেশি। তাই অডিয়েন্স ক্যাপচার করার এক বড় মাধ্যম হলো এটি।

প্রতিদিন প্রায় ২০% ইউজার এখানে সক্রিয় থাকে। তাই আপনি যদি মার্কেটিং করতে যান তবে এখানে এক বিশাল স্কোপ কিন্তু আপনার জন্য আগে থেকেই তৈরি হয়ে থাকবে। 

সেই সাথে ইন্সটাগ্রাম এ মার্কেটিং এক অনন্য উপায়। কেননা এখান অডিয়েন্স এর সাথে ভালোভাবে ইন্টারাঅ্যাক্ট করা যায়। অডিয়েন্স এর সাথে ভালো মতো কানেকশন তৈরির মাধ্যমে নিজের ব্যবসাকেও ভালো মত চালানো যায়।

মোট কথা আপনার ব্যবসা এর তরান্বতির জন্য ইন্সটাগ্রাম একটি সেরা মাধ্যম হতে পারে খুব সহজেই। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর ক্ষেত্রেও এর রয়েছে ভালো একটি ব্যাক গ্রাউন্ড। 

লিঙ্কডইন মার্কেটিংঃ

প্রায় ২৮ কোটি এর মতো ইউজার সংখ্যা সম্বলিত সোশ্যাল মিডিয়া হলো লিঙ্কডইন। মার্কেটিং এর জন্য প্রোফেশনালিজম এর পরিচয় বা খ্যাতি পাওয়া সোশ্যাল মিডিয়াও এটি। লিঙ্কডইন মানুষ মূলত ব্যবহার করে থাকে এমন ব্যবসা কিংবা সার্ভিস এর প্রচার এর জন্যই। লিঙ্কডইন মার্কেটিং এ যেসব সুবিধা পাবেন তা হলোঃ 

  •  লিঙ্কডইন এ আপনি নিজের ব্রান্ড এর একটি গ্রুপ তৈরি করে ফেলতে পারেন। এবং আপনার সাথে যারা যুক্ত আছে তাদের কাছে তা প্রোমোট করতে পারবেন। 
  • এছাড়াও থাকছে নিজের গ্রুপকে একেবারে নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগ। 
  •  নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির জন্য আপনি বিভিন্ন টিপসও পাবেন লিঙ্কডইন মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে। 
  • আপনার ব্যবসা যেরকমই হোক না কেন আপনি আপনার নিজের ব্যবসা অনুযায়ী ক্লায়েন্ট খুঁজে নিতে পারবেন খুব সহজেই। 

এছাড়াও মেইল সংগ্রহের বিষয়টি লিঙ্কডইন এ অনেক সহজ। যার ফলে আপনি সহজেই ইমেইল কালেক্ট করে ইমেইল মার্কেটিং করতে পারবেন। 

পিন্টারেস্ট মার্কেটিংঃ 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর জন্য আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো পিন্টারেস্ট। পিন্টারেস্ট ব্যবহার করে আপনি নিজের প্রোডাক্ট এর পিন করে তা পিন্টারেস্ট অ্যাপ এ দিতে পারবেন। এতে করে কেউ আপনার সেই পিন এ ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইটে রিডাইরেক্ট হতে পারে। 

মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে পিন্টারেস্ট খুব কয়েকদিনে সোশ্যাল বুকমার্কিং সাইট হিসাবে জনপ্রিতা অর্জন করেছে। এছাড়াও ৮ কোটি প্লাস ইউজার নিয়ে এখানে মার্কেটিং করে আপনি খুব তাড়াতাড়ি নিজের ব্যবসাকে ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবেন আশা করি। 

পিন্টারেস্ট মার্কেটিং এর সুবিধার মধ্যে রয়েছেঃ 

পিন্টারেস্টে আপনি পাবেন নিজের একটি বিজনেস প্রোফাইল খোলার সুযোগ। যেখানে আপনি নিজের অনলাইন ব্যবসার প্রোডাক্ট এর পিন দিতে পারবেন। 

আপনার ব্যবসা যে রকম এটি সেই রকম একটি পার্সোনালাইজড নাম দেয়ার সুযোগ করে দেয়। 

আপনি পিন্টারেস্টে বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর সাথে লিংক যুক্ত করে দিতে পারেন। ধরুন কোনো ফটো দিলেন এবং তাতে আপনার ব্লগের প্রতি রিডাইরেক্ট করার নির্দেশ থাকলো। তাহলে কেউ ক্লিক করলেই আপনার ওয়েব এ চলে যাবে। এভাবে ব্যাকলিংক এরও কাজ করে। 

এভাবে পিন্টারেস্ট ব্যবহার করে আপনি ভালোভাবে মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন। 

কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয় করবেন? 

আলোচনার এই শেষ পর্যায়ে আপনার কিন্তু একটা প্রশ্ন এসেই গেছে যে এত কিছু তো বললনে কিন্তু টাকা আয় করব কিভাবে। 

তো এ পর্যায়ে আমরা আপনার সেই প্রশ্ন এর উত্তরই খুজব। না খুজব না দিব। কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয় করবেন তার কলাকৌশল নিচে দেয়া হলোঃ 

যে কোন জিনিস এর প্রোমোশনঃ 

আপনি যে কোন জিনিসকে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্রোমোট করে টাকা আয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আয় এর ক্ষেত্র হলো দুটি। আপনি তা দুইভাবেই করতে পারবেন। 

প্রথম ক্ষেত্রে যার কথা আপনাকে বলতে চাই তা হলো, যদি আপনি কোনো ব্যবসায়ী হোণ তবে আপনার অধীনে থাকা কোনো প্রোডাক্ট এর প্রোমোশন করে কিন্তু আপনি আয় করতে পারবেন এর মাধ্যমে। এটি হলো প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং থেকে আয় করার। 

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আপনি অনেক ব্যবসায়ীকে দেখতে পাবেন যারা এই জিনিস এর প্রোমোটার দের খুঁজে থাকে। আপনি সে ক্ষেত্রে যদি একজন সোশ্যাল মিডীয়া মার্কেটার হয়ে থাকেন তবে কিন্তু একটা ভালো অ্যামাউন্ট এর টাকা আয় করতে পারবেন খুব সহজেই। 

টার্গেটেড মার্কেটিংঃ 

আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন এবং নিজের লোকাল ব্যবসাকে পুরো দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান তবে টার্গেটেড মার্কেটিং আপনার আয় এর জন্য একটা অত্যাবশকীয় উপাদান। আর সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি তা করতে পারবেন। আপনি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী এর কাছে নিজের প্রোডাক্ট সমন্ধে প্রচার প্রচারণা করে খুব সহজেই একটা হ্যান্ডসাম ইনকাম পেয়ে যেতে পারেন। 

ফ্রিল্যান্সিং করে আয়ঃ 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কিন্তু এক ধরনের ফ্রিল্যান্সিং ওয়ার্ক তা হয়তো আপনি জানেন। আর এই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারবেন খুব সহজেই। 

ফাইভার কিংবা অন্যান্য মার্কেটপ্লেস গুলোতে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর অনেক কাজ পেয়ে যাবেন। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটারদের অনেকটা খ্যাতি আপনি সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও দেখতে পাবেন। আপনি যদি সোশ্যাল মিডীয়াগুলোতে চোখ রাখেন তাহলেই কিন্তু অনেক কাজ পেয়ে যাবেন এ সমন্ধিত। এভাবে কাজ করে আপনি আয় করতে পারবেন। 

উপরোক্ত আর্টিকেলে আমরা আজকে কথা বললাম মূলত সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কি, ডিজিটাল মার্কেটিং কি এ সমন্ধে। এ ছাড়াও কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয় করবেন তাও আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি উপরোক্ত আর্টিকেলটি আপনার কাজে আসবে। কেননা আপনি যদি একটি স্থানীয় বিজনেসা চালিয়ে থাকেন তা বিশ্ব মানের করতে সোশ্যাল মিডিয়া এর ভূমিকা অন্যতম। 

ইনকাম সমন্ধিত এমনি পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। আর পরবর্তী পোস্ট সবার আগে পেতে ফলো দিয়ে রাখুন। ধন্যবাদ। 

To Write Your Thoughts Please Login First

Login

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় । গুগল এডসেন্স এর নিয়ম

গুগল এডসেন্স কে সোনার হরিণ ও বলা হয়। কেননা এটা খুবই মূল্যবান একটি এডভার্টিসমেন্ট একাউটন্ট। আজকে আমি আলোচনা করব কিভাবে গুগল এডসেন্স পাওয়া যায় ও...

ফেসবুক থেকে কিভাবে অনলাইনে আয় করা যায়- জানুন বিস্তারিত!!

সবচেয়ে সেরা সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম এর কথা জিজ্ঞেস করলে আপনার কাছে তার উত্তর কি হবে? নিশ্চয় ফেসবুক তাই না? হ্যাঁ, আপনার মতো ৫ বিলিয়ন মানুষের...

অনলাইন ইনকামের গোপন রহস্য- জিনে নিন এবং ধুমসে অনলাইন আয় করুন

অনলাইন ইনকাম বিষয়টি এখন একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই চাকরি এবং পড়ালেখার পাশাপাশি অনলাইন থেকে ভালো পরিমাণে ইনকাম করছেন। আবার অনেকেই এই পেশা নতুন করে...

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? Graphics Design করে কিভাবে আয় করবেন ?

আমরা মুভি কিংবা অ্যানিমেশন সবাই দেখে থাকি| যে কোনো ক্ষেত্রে এরকম কিছু বিষয় থাকে যেখানে গ্রাফিক্স ডিজাইন উপস্থিত। কিন্তু আমরা সেগুলো ব্যবহার করে থাকলেও ভাবি না মূল...